সালাতের পর দুআ ও যিক্‌র

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ।

আমাদের দেশে দেখা যায়, ফরয সালাত হয়ে গেলে ইমাম-মুক্তাদীগণ সম্মিলিতভাবে মুনাজাত আরম্ভ করে দেন। যা সুন্নাহ পরিপন্থী কাজ এবং নতুন উদ্ভাবিত বিষয়। যাকে ইসলামী পরিভাষায় বিদ’আত বলা হয়। এই বিদ’আত চালু হওয়ার ফলে রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সালাতের পর যে সকল দুয়া ও যিকির পাঠ করতেন সেগুলোর গুরুত্ব উঠে গেছে। মানুষ মুনাজাতকে সালাতের অংশ মনে করে নিয়েছে। এমনকি কোন মসজিদের ইমাম যদি ফরয সালাতের পর মুনাজাত না দেয় তার চাকরি চলে যায়। বলা হয়, একটি সুন্নত যেখান থেকে উঠে যায় একটি বিদ’আত সেখানে জায়গা দখল করে নেয়। যার চিত্র আমাদের সমাজে লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

এই পোষ্টে আমি ফরয সালাতের পর পঠিতব্য কুরআন ও হাদীস ভিত্তিক কিছু দুয়া ও যিকির দলিলসহ উল্লেখ করলাম। যা আমি নিয়মিত আমল করার চেষ্টা করি। যারা রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর সুন্নাহর প্রকৃত অনুসারী তারা এগুলো আমল করতে পারেন। বেশিরভাগ দু’আ বাংলা উচ্চারণে দিব যাতে যারা আরবি পড়তে জানেন না তাদের সুবিধা হয়। যারা আরবি পড়তে পারেন তারা অবশ্যই হাদিসের গ্রন্থ অথবা দু’আর বই থেকে আরবিতে পড়বেন। ইনশআল্লাহ । কারণ আরবি’র হুবহু বিকল্প কোন ভাষাতে সম্ভব নয়।

১। সালাম শেষে তিনবার “আস্‌তাগ্‌ফিরুল্লাহ্‌ [অর্থঃ আমি আল্লাহর নিকটে ক্ষমা প্রার্থনা করছি]” এবং একবার “আল্লাহুম্মা আন্‌তাস সালাম ওয়া মিনকাস সালাম, তাবারাকতা ইয়া যাল-জালালি ওয়াল-ইকরাম [অর্থঃ হে আল্লাহ! আপনিই শান্তি, আপনার থেকেই আসে শান্তি। আপনি কল্যানময়  এবং সম্মান ও প্রতিপত্তির অধিকারী]”  ।

সাওবান (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ রাসূলুল্লাহ (সাঃ) সালাত শেষ করে তিনবার ইসতিগফার করতেন এবংবলতেন “আল্লাহুম্মা আন্‌তাস সালাম ওয়া মিনকাস সালাম, তাবারাকতা ইয়া যাল-জালালি ওয়াল-ইকরাম”। হাদিস বর্ণনাকারী ওয়ালিদ বলেন- আমি আওযায়ীকে জিজ্ঞেস করলাম রাসূলুল্লাহ (সাঃ) কিভাবে ইসতিগফার করতেন। তিনি বললেন রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলতেন- আস্‌তাগ্‌ফিরুল্লাহ, আস্‌তাগ্‌ফিরুল্লাহ।

[হাদিসের অনুবাদ সহীহ মুসলিমের]

দলিলসমূহঃ

  • সহীহ মুসলিম, বাংলাদেশ ইসলামিক সেন্টার, হাদিস নং- ১২২২
  • সহীহ মুসলিম, আহলে হাদিস লাইব্রেরী, হাদিস নং-১২২১
  • সহীহ মুসলিম, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, হাদিস নং-১২১০
  • সনুান আন-নাসাঈ, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, হাদিস নং-১৩৮০
  • সুনান আন-নাসাঈ, হুসাইন আল-মাদানী প্রকাশনী, হাদিস নং-১৩৩৭
  • সুনান ইবন মাজাহ্, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, হাদিস নং- ৯২৮
  • সুনান ইবন মাজাহ্, আত্ব-তাওহীদ প্রকাশনী, হাদিস নং- ৯২৮

২। একবার “আল্লাহুম্মা আ ই’ন্নী আ’লা যিকরিকা ওয়া শুকরিকা ওয়া হু’সনি ইবাদাতিকা [অর্থঃ হে আল্লাহ! আপনার স্বরণে, আপনার কৃতজ্ঞতা প্রকাশে এবং আপনার উত্তম ইবাদাতে আমাকে সাহায্য করুন]”।

মু’আয ইবনে জাবাল (রাঃ) থেকে বর্ণিত। একদা রাসূলুল্লাহ (সাঃ) তার হাত ধরে বললেন হে মু’আয! আল্লাহর শপথ! আমি অবশ্যই তোমাকে ভালবাসি, আল্লাহর শপথ! আমি অবশ্যই তোমাকে ভালবাসি। তিনি (সাঃ) বললেন হে মু’আয আমি তোমাকে ওয়াসিয়াত করছি, তুমি প্রত্যেক সালাতের পর এ দু’আটি কখনো পরিহার করবে না। তা হলঃ “ আল্লাহুম্মা আ ই’ন্নী আ’লা যিকরিকা ওয়া শুকরিকা ওয়া হু’সনি ইবাদাতিকা”।

[হাদিসের অনুবাদ সুনান আবু-দাউদের]

দলিলসমূহঃ

  • সুনান আবু দাউদ, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, হাদিস নং-১৫২২
  • সুনান আবুদ দাউদ, আল্লামা আলবানী একাডেমী, ১৫২২

৩। ৩৩ বার “সুব্‌হানাল্লাহ [অর্থঃ পবিত্রতাময় আল্লাহ]”,  ৩৩ বার “আলহামদুলিল্লাহ [অর্থঃ যাবতীয় প্রশংসা আল্লাহর জন্য]”, ৩৩ বার “আল্লাহু আকবার [অর্থঃ আল্লাহ সবার চেয়ে বড়]” এভাবে মোট ৯৯ হলে “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহূ লা শারীকা লাহু, লাহুল মুল্‌কু ওয়া লাহুল হামদু ওয়া হুয়া আলাকুল্লি শাইয়্যিন ক্বদীর [অর্থঃ নেই কোন উপাস্য একক আল্লাহ ব্যতীত; তাঁর কোন শরীক নেই। তাঁরই জন্য সমস্ত রাজত্ব ও তাঁরই জন্য যাবতীয় প্রশংসা। তিনি সকল কিছুর উপরে ক্ষমতাশালী]” পড়ে একশ মিলাবে।

আবু হুরায়রা (রাঃ)থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি প্রত্যেক ওয়াক্তে সালাতের শেষে তেত্রিশবার বার আল্লাহর তাসবীহ বা আল্লাহর পবিত্রতা বর্ণনা করবে, তেত্রিশবার বার আল্লাহর তাহমীদ বা আল্লাহর প্রশংসা বর্ণনা করবে এবং তেত্রিশবার আল্লাহর তাকবীর বা আল্লাহর মহত্ব বর্ণনা করবে আর এভাবে নিরানব্বই বার হওয়ার পরশততম পূর্ণ করতে বলবে- “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহূ লা শারীকা লাহু, লাহুল মুল্‌কুওয়া লাহুল হামদু ওয়া হুয়া আলা কুল্লি শাইয়্যিন ক্বদীর”। তার গুনাসমূহ সমুদ্রের ফেনা রাশির মত অসংখ্য হলেও ক্ষমা করে দেয়া হবে।

[হাদিসের অনুবাদ সহীহ মুসলিমের]

দলিলসমূহঃ

  • সহীহ মুসলিম, বাংলাদেশ ইসলামিক সেন্টার, হাদিস নং- ১২৪০
  • সহীহ মুসলিম, আহলে হাদিস লাইব্রেরী, হাদিস নং-১২৩৯,১২৪০
  • সহীহ মুসলিম, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, হাদিস নং-১২২৮, ১২২৯

৪। অথবা ৩৩ বার “সুব্‌হানাল্লাহ [অর্থঃ পবিত্রতাময় আল্লাহ]”,  ৩৩ বার “আলহামদুলিল্লাহ [অর্থঃ যাবতীয় প্রশংসা আল্লাহর জন্য]”, ৩৪ বার “আল্লাহু আকবার [অর্থঃ আল্লাহ সবার চেয়ে বড়]”

কাব ইবনে উজরাহ্‌(রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্‌ (সাঃ) বলেছেনঃ প্রত্যেক ফরয সালাতের পর কিছু দু’আ আছে, যে ব্যক্তি ঐগুলো পড়ে বা কাজে লাগায় সে কখনো নিরাশ বা ক্ষতিগ্রস্থ হয় না। তা হলোঃ তেত্রিশবার তাসবিহ (সুবহানাল্লাহ) পড়া, তেত্রিশবার তাহমীদ (আলহামদুলিল্লাহ) পড়া, চৌত্রিশবার তাকবীর (আল্লাহু আকবার) পড়া।

[হাদিসের অনুবাদ সহীহ মুসলিমের]

দলিলসমূহঃ

  • সহীহ মুসলিম, বাংলাদেশ ইসলামিক সেন্টার, হাদিস নং- ১২৩৭, ১২৩৮, ১২৩৯
  • সহীহ মুসলিম, আহলে হাদিস লাইব্রেরী, হাদিস নং-১২৩৬,১২৩৭, ১২৩৮
  • সহীহ মুসলিম, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, হাদিস নং-১২২৫, ১২২৬, ১২২৭
  • সনুান আন-নাসাঈ, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, হাদিস নং-১৩৫২
  • সুনান আন-নাসাঈ, হুসাইন আল-মাদানী প্রকাশনী, হাদিস নং-১৩৪৯
  • সুনান ইবন মাজাহ্, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, হাদিস নং- ৯২৭
  • সুনান ইবন মাজাহ্, আত্ব-তাওহীদ প্রকাশনী, হাদিস নং- ৯২৭

 

৫। এছাড়া ২৫ বার “সুব্‌হানাল্লাহ [অর্থঃ পবিত্রতাময় আল্লাহ]”,  ২৫ বার “আলহামদুলিল্লাহ [অর্থঃ যাবতীয় প্রশংসা আল্লাহর জন্য]”,  ২৫  বার “আল্লাহু আকবার [অর্থঃ আল্লাহ সবার চেয়ে বড়]” এবং ২৫ বার “লা-ইলাহা-ইল্লাল্লাহ [অর্থঃ আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোন মাবুদ নাই]” পড়া যায়।

যায়দ ইবনে সাবিত(রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা সাহাবায়ে কেরামকে আদেশ করা হলো- তারা যে প্রত্যেক সালাতের পর ৩৩ বার সুবহানাল্লাহ, ৩৩ বার আলহামদুলিল্লাহ, এবং ৩৪ বার আল্লাহু আকবার বলে। তারপর যায়দ ইবনে সাবিত (রাঃ) এর স্বপ্নে এক আনসারী সাহাবী উপনীত হয়ে যায়দ (রাঃ) কে লক্ষ্য করে বলা হলো, তোমাদের কি রাসূলুল্লাহ (সাঃ) আদেশ করেছেন যে,তোমরা প্রত্যেক সালাতের পর ৩৩ বার সুবহানাল্লাহ, ৩৩ বার আলহামদুলিল্লাহ, এবং ৩৪ বার আল্লাহু আকবার বলবে? তিনি বললেন হ্যা। তখন ঐ আনসার বললেন, তোমরা ঐ তাসবীহগুলোকে ২৫ বার করে পড়বে এবং তাতে লা-ইলাহা-ইল্লাল্লাহ’কে অন্তর্ভুক্ত করে নিবে। যখন ভোর হলে তিনি রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর কাছে এসে স্বপ্নের বৃত্তান্ত বর্ণনা করলে তিনি(সাঃ) বললেন, তোমরা তাসবীহ গুলো অনুরূপভাবেই পড়বে।

[হাদিসের অনুবাদ সুনান আন-নাসাঈ থেকে]

দলিলসমূহঃ

  • সুনান আন-নাসাঈ, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, হাদিস নং-১৩৫৩, ১৩৫৪
  • সুনান আন-নাসাঈ, আল্লামা আলবানী একাডেমী, হাদিস নং-১৩৫০, ১৩৫১

৬। একেবারে কম করে “১০ বার সুব্‌হানাল্লাহ”, “১০ বারআলহামদুলিল্লাহ”, “১০ বার আল্লাহু আকবার” ও পড়তে পারেন।

আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন দুটি আমল এমন রয়েছে যে, কোন মুসলিম ঐ দুটি অভ্যাসে অভ্যস্থ হলে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। ঐ দুটি অভ্যাস সহজ অথচ তার আমলকারী হবে খুবই অল্প। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বললেন, পাঁচ ওয়াক্ত সালাতে তোমাদের কেউ যদি প্রত্যেক সালাতের পর দশবার তাসবীহ(সুবহানাল্লাহ) পড়ে, দশবার তাহমীদ (আলহামদুলিল্লাহ) পড়ে, আর দশবার তাকবীর (আল্লাহু আকবার) বলে তাহলে একশত পঞ্চাশ বার মুখে বলা হয় আর তা পাল্লায় হবে এক হাজার পাঁচশত বার। আর আমি রাসূলুল্লাহ (সাঃ) কে দেখেছি, তিনি তা আঙ্গুলি দ্বারা হিসাব করেছেন।

[হাদিসের অনুবাদ সুনান আন-নাসাঈ থেকে]

দলিলসমূহঃ

  • সুনান আন-নাসাঈ, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, হাদিস নং-১৩৫১
  • সুনান আন-নাসাঈ, আল্লামা আলবানী একাডেমী, হাদিস নং-১৩৪৮
  • সুনান ইবন মাজাহ্‌, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, হাদিস নং-৯২৬
  • সুনান ইবন মাজাহ্‌, আত্ব-তাওহীদ প্রকাশনী, হাদিস নং-৯২৬

৭। আয়াতুল কুরসি পাঠ করা। অর্থাৎ সূরা বাকারা’র ২৫৫ নং আয়াত।

আয়াতুল কুরসী
বাংলা উচ্চারণঃ আল্লা-হু লা ইলা-হা ইল্লা হুওয়াল হাইয়ুল ক্বাইয়ূম। লা তা’খুযুহু সেনাতুঁ ওয়ালা নাঊম। লাহূ মা ফিস্ সামা-ওয়াতে ওয়ামা ফিল আরয। মান যাল্লাযী ইয়াশফা‘উ ‘ইন্দাহূ ইল্লা বিইয্নিহি। ইয়া‘লামু মা বায়না আয়দীহিম ওয়ামা খালফাহুম, ওয়ালা ইউহীতূনা বিশাইয়িম্ মিন ‘ইল্মিহী ইল্লা বিমা শা-আ; ওয়াসে‘আ কুরসিইয়ুহুস্ সামা-ওয়া-তে ওয়াল আরয; ওয়ালা ইয়াউদুহূ হিফযুহুমা ওয়া হুওয়াল ‘আলিইয়ুল ‘আযীম

অর্থ :আল্লাহ, যিনি ব্যতীত কোন উপাস্য নেই। যিনি চিরঞ্জীব ও বিশ্বচরাচরের ধারক। কোন তন্দ্রা বা নিদ্রা তাঁকে পাকড়াও করতে পারে না। আসমান ও যমীনে যা কিছু আছে সবকিছু তাঁরই মালিকানাধীন। তাঁর হুকুম ব্যতীত এমন কে আছে যে তাঁর নিকটে সুফারিশ করতে পারে? তাদের সম্মুখে ও পিছনে যা কিছু আছে সবকিছুই তিনি জানেন। তাঁর জ্ঞানসমুদ্র হ’তে তারা কিছুই আয়ত্ত করতে পারে না, কেবল যতুটুকু তিনি দিতে ইচ্ছা করেন। তাঁর কুরসী সমগ্র আসমান ও যমীন পরিবেষ্টন করে আছে। আর সেগুলির তত্ত্বাবধান তাঁকে মোটেই শ্রান্ত করে না। তিনি সর্বোচ্চ ও মহান’।

আবূ উমামাহ (রাঃ)থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ যে কেউ আয়াতুল কুরসি প্রত্যেক ফরয সালাতের পর পাঠ করলে তার মৃত্যুই তার জন্য জান্নাতে প্রবেশ করার জন্য বাধা হয়েআছে।

[হাদিসের অনুবাদ বুলুগুল মারাম থেকে]

দলিলসমূহঃ

  • বুলুগুল মারাম, তাওহীদ পাবলিকেশন্স, হাদিস নং- ৩২৬
  • নাসাঈ, ইবনে হিব্বান একে সহীহ্ বলেছেন।

৮। সূরা নাস এবং সূরা ফালাক পাঠ করা।

উক্ববাহ ইবনে আমির(রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) প্রত্যেক সালাতের পর “কুল আ’উযুবি-রব্বিল ফালাক্ব” এবং “কুল আ’উযু বি-রব্বিন নাস” সূরাহ্ দুটি পাঠ করতে নির্দেশ দিয়েছেন।

[হাদিসের অনুবাদ সুনান আবু দাউদ থেকে]

দলিলসমূহঃ

  • সুনান আন-নাসাঈ, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, হাদিস নং-১৩৩৯
  • সুনান আন-নাসাঈ, হুসাইন আল-মাদানী প্রকাশণী, হাদিস নং-১৩৩৬
  • সুনান আবু-দাউদ, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, হাদিস নং-১৫২৩
  • সুনান আবু-দাউদ, আল্লামা আলবানী একাডেমী, হাদিস নং -১৫২৩

এছাড়া অসংখ্য দু’আ যিকির আছে যেগুলো হাদিসের গ্রন্থ গুলোর সালাত অধ্যায়ে পাবেন। অথবা সহীহ্‌ দলিলভিত্তিক যে কোন দু’আর বইতে পাবেন। এখানে শুধু আমি যেগুলো নিয়মিত পড়ি সেগুলো দিয়েছি। কোন ভুল হলে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। আল্লাহ আমাদের সহীহ্‌ সুন্নাহ মোতাবেক আমল করার তৌফিক দান করুন।

ওহ! তাছাড়া সাইয়্যেদুল ইসতিগফার অর্থাৎ সর্বশ্রেষ্ঠ ইসতিগফার নিয়মিত পাঠ করতে ভুলবেন না।

সাইয়্যেদুল ইসতিগফার

উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা আনতা রব্বী লা ইলাহা ইল্লা আনতা খলাকতানী, ওয়া আনা আবদুকা, ওয়া আনা আলা আহদিকা মাসতাতা’তু, আউজুবিকা মিন শাররি মা ছনা’তু, আবুউ লাকা বিনি’মাতিকা আলাইয়া, ওয়া আবুউ লাকা বিজানবী, ফাগফিরলী, ফাইন্নাহু লা ইয়াগফিরুজজুনুবা ইল্লা আনতা ।

অর্থ : হে আল্লাহ ! তুমি আমার প্রতিপালক, তুমি ছাড়া কোন মাবুদ নাই। তুমি আমার স্রষ্টা আর আমি তোমার গোলাম। যথাসম্ভব তোমার সাথে কৃত অঙ্গীকার ও প্রতিশ্র“তি রক্ষায় অটল থাকব। আমার কৃতকর্মের অনিষ্ট থেকে তোমার নিকট আশ্রয় চাই। আমার উপর তোমার নেয়ামত সমূহের কথা স্বীকার করি। আমি আমার নাফরমানির কথাও স্বীকার করি। তাই আমার গুনাহ ক্ষমা করে দাও। কেননা তুমি ছাড়া আর কোন মাবুদ নাই।

সাদ্দাদ ইবন আওস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: সায়্যেদুল ইস্তেগফার হল “আল্লাহুম্মা আন্তা রাব্বী লা ইলাহা ইল্লা আন্তা খালাক্বতানী, ওয়া আনা ‘আবদুকা ওয়া আনা ‘আলা ‘আহদিকা, ওয়া ওয়া‘দিকা মাস্তাতু‘তু, আ‘উজুবিকা মিন সাররি মা সানা‘তু, আবুউলাকা বিনি‘মাতিকা ‘আলাইয়্যা, আবুউ বিজানবী, ফাগফিরলী ফাইন্নাহু লা ইয়াগফিরুজুনুবা ইল্লা আন্তা।  যে ব্যক্তি দৃঢ়বিশ্বাসসহ এ দো‘আ দিনের বেলা পাঠ করে, আর সন্ধার পূর্বে মৃত্যুবরণ করে সে জান্নাতি। আর যে ব্যক্তি রাতের বেলা একীনসহ এ দু’আ পাঠ করে এবং সকাল হওয়ার পূর্বে মৃত্যুবরণ করে সেও জান্নাতি।
[হাদিসের অনুবাদ সহীহ বুখারী থেকে]

দলিলসমূহঃ

সহীহ্‌ বুখারি, ইসলামিক ফাউণ্ডেশন, হাদিস নং- ৫৮৬৭

পূর্বে প্রকাশিতঃ ফেসবুক লিংক

Advertisements

Leave a Comment

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s